
বালাগ্রাম, জলঢাকা, নীলফামারী।
অনেক সন্ধ্যায় মর্জিয়া বেগম দিনমজুরি থেকে স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় থাকতেন—ক্লান্ত হাত, অনিশ্চিত মজুরি। ঘরে ছোট একটি মেয়ে, প্রতিটি টাকার খরচ আসার আগেই ঠিক হয়ে থাকত। স্কুলের ফি মনে হতো ভারী; স্বপ্নগুলো মনে হতো দূরের।
এরপর একটি দরজা খুলে যায়। ছওয়াব ফাউন্ডেশনের সামাজিক উদ্যোগ (ক্ষুদ্র বিনিয়োগ ও দক্ষতা) কর্মসূচির মাধ্যমে মর্জিয়া হাতে-কলমে সেলাই প্রশিক্ষণ—মাপ নেওয়া, কাটা, নিখুঁত ফিনিশিং, দাম নির্ধারণ—এবং বাড়ি থেকে কাজ শুরু করার জন্য একটি সেলাই মেশিন পান। প্রথম অর্ডারগুলো ছিল ছোট: কখনো একটি ব্লাউজ, কখনো ইউনিফর্মের সেলাই। কিন্তু ছন্দ বাড়তে থাকে—সেলাই থেকে আস্থা, প্রতিবেশী থেকে ক্রেতা, আর দুশ্চিন্তার বদলে খাতায় যত্নের হিসাব।
এখন মুদি বাজারের টাকা সময়মতো পরিশোধ হয়। আলমারিতে একটি ছোট সঞ্চয়ের খাম রাখা থাকে। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁর মেয়ে স্কুলে যায়—পরিষ্কার ইউনিফর্ম আর উজ্জ্বল মুখ নিয়ে। মেশিন থামার পরের নীরবতায় মর্জিয়া ভাঁজ করা পোশাক আর সেগুলোর সঙ্গে বোনা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে হাসেন।
“আমার স্বামীর আয় যথেষ্ট ছিল না,” মৃদু কণ্ঠে বলেন মিসেস মর্জিয়া বেগম। “ছওয়াব আমাকে দক্ষতা, একটি মেশিন আর সাহস দিয়েছে। আজ আমি মর্যাদার সঙ্গে আয় করতে পারি, মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে পারি, আর বলতে পারি আলহামদুলিল্লাহ—আমাদের পরিবার ভালো আছে।”
বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৪-২৫
← সব গল্পে ফিরে যান

