
বর্ণমালা ইশকুল, ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
নবীনগর হাউজিংয়ের সরু গলিতে একসময় আয়েশা সিদ্দিকা ঘরে বসে অন্য শিশুদের স্কুলে ছুটে যেতে দেখত। বাবার সীমিত আয়ে ঢাকার উচ্চ শিক্ষাব্যয়—ফি, বই, ইউনিফর্ম—ছিল নাগালের বাইরে, আর তার স্বপ্নগুলো মনে হতো অনেক দূরের।
এরপর ছওয়াব ফাউন্ডেশনের বর্ণমালা ইশকুল তার জন্য দরজা খুলে দেয়। এখানে সবকিছু বিনামূল্যে—টিউশন, ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ—সাথে যত্নশীল শিক্ষক, স্বাস্থ্যবিধি সেশন, মাসিক অভিভাবক সভা এবং জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণ, যা তার আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করেছে এবং সামনের পথ আলোকিত করেছে।
আজ আয়েশার উপস্থিতি ৯০%-এর বেশি। যে অঙ্ককে সে একসময় ভয় পেত, এখন তা সমাধান করে এবং দৃঢ় কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি করে। বাড়িতে একটি ছোট পড়ার কোণ যেন সুরক্ষিত প্রদীপের মতো জ্বলে—যে সময়টুকু তার বাবা-মা এখন গর্বের সঙ্গে আগলে রাখেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে সে হাসে:
“যে শহরে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল, সেখানে বর্ণমালা ইশকুলের বিনামূল্যে পড়াশোনা—ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণসহ—আমার নিয়মিত স্কুলে আসা সম্ভব করেছে। একদিন আমি শিক্ষক হতে চাই।”
যে স্কুল বিশ্বাস করে প্রতিটি শিশু একটি সুযোগের যোগ্য—আয়েশার কাছে সেটাই ছিল সবকিছু: কাঁধে ইউনিফর্ম, পদক্ষেপে আত্মবিশ্বাস, আর হাতের নাগালে একটি স্বপ্ন।
বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৪-২৫
← সব গল্পে ফিরে যান

